তাঁত শিল্প (ইতিহাস+উন্নয়ন) এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা

সংক্ষিপ্ত করে তাঁত শিল্পের ইতিহাস

বাংলাদেশের সব থেকে পুরাতন ও বৃহত্তম শিল্প হলো তাঁত। তাঁতের প্রচলন আদিকাল থেকে শুরু হয়। তাঁতের ইতিহাস সঠিকভাবে বলা খুব কঠিন। কারণ এখনও তা ভালোভাবে পরিষ্কার না, যে কবে, কোথায়, কখন তাঁতের প্রচলন শুরু হয়েছিল। তবে আদিকালের তন্তবায়ী গোত্রের লোকেরাই এই শিল্পের প্রচলন শুরু করেছিল বলে জানা যায়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে পুরো দেশে তাঁত শিল্প ছড়িয়ে পড়ে। 

ইতিহাসের দিকে ভালোভাবে তাকালে আরও দেখা যায়, মণিপুরীরা আদিকাল থেকেই তাঁত শিল্প ব্যবহার করে বস্ত্র তৈরি করে আসছে। প্রথমদিকে মণিপুরীরা তাদের নিজেদের বস্ত্র চাহিদার প্রয়োজন মিটানোর জন্য ই তাঁত শিল্প গড়ে তুলেছিল। পরে তা ধীরে ধীরে শিল্প তে রূপান্তরিত হয়। মনিপুরিরা বস্ত্র তৈরি করার জন্য তিন ধরনের তাপ মেশিন বা তাঁতকল ব্যবহার করত।

  • কোমরে বাঁধা তাঁত
  • হ্যান্ডলুম তাঁত
  • থোয়াং

উপরে উল্লেখিত তাঁত মেশিন দিয়ে তারা টেবিল ক্লথ, মেয়েদের ওড়না, স্কার্ফ, তোয়ালে, মাফলার, মশারি, শাড়ি, চাদর ইত্যাদি তৈরি করত। 

তাঁত শিল্পের উন্নয়ন

তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ১৯৭৭  সালের এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড’ বিল- পাস করেছে এই সরকার। দেশের বস্ত্র উত্পাদনের প্রায় ৭০ ভাগ যোগান দিচ্ছে তাঁত শিল্প। এই শিল্পে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ লোক নিয়োজিত রয়েছে। ‘বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড আইন-২০১৩’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হলে পুর্নগঠিত বোর্ড দেশের তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বর্তমানে আমাদের দেশের তাঁতিদের তৈরি করা :- 

  • জামদানি
  • বেনারসি
  • গরদ
  • টাঙ্গাইল শাড়ি
  • লুঙ্গি
  • গেঞ্জি
  • গামছা
  • টুপি
  • সেলোয়ার কামিজ
  • পিট লুম
  • ফ্রেম লুম 

জামদানি লুম ইত্যাদি পণ্যের চাহিদা আমাদের দেশে যেমন অধিক, তেমনি করে দেশের বাহিরে এই পণ্যের চাহিদা অধিক। তাই বর্তমানে তাঁত শিল্পে উৎপাদিত পোশাক বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হচ্ছে।

অর্থনীতিতে তাঁত শিল্প

বাংলাদেশের তাঁত শিল্প সর্ববৃহৎ কুটির শিল্প। আমাদের দেশের অর্থনীতি তাঁত শিল্পের অবদান অনেক। বছরে প্রায় ৮০ কোটি মিটার বস্ত্র উৎপাদিত হস্তচালিত তাঁতের সাহায্যে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৪০ ভাগ পূরন করে থাকে। এ শিল্প থেকে মূল্য সংযোজন করের পরিমাণ প্রায় ১৫০০,০০ কোটি টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭ লক্ষের অধিক হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। আমাদের দেশের মোট কাপড়ের চাহিদার শতকরা ৭০ ভাগ যোগ দিচ্ছে তাঁত শিল্প। বাংলাদেশর ৬৫ লক্ষ লোক তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে।

শুধুমাত্র মণিপুরীরা রপ্তানি করে:-

২০০৯ সালে ২২ লক্ষ টাকা

২০১০ সালে ৩৩ লক্ষ টাকা

২০১২ সালে ৫০ লক্ষের অধিক টাকার কাপড় শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করা হয়েছে।

আপনার পছন্দ হতে পারে

পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

আরো ভালো ভালো পোস্ট পেতে টেক্সটাইল বাংলাকে সাবস্ক্রাইব করুন

Leave a Comment