ওয়াশিং মেশিন কেনার সময় লক্ষণীয় বিষয়

দুনিয়ার সমস্ত মানুষের সময়ের সাথে সাথে আপডেট বা উন্নত হচ্ছে। মানুষের সাথে সাথে আশেপাশের সমস্ত আসবাবপত্র ও উন্নত হচ্ছে।

কাপড় ধোয়ার প্রচলন প্রাচীন আমল থেকেই আসছে। কিন্তু এখন আর মানুষ আগের মত কষ্ট করে কাপড় ধৌত করতে চায় না। তাই নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন নতুন ওয়াশিং মেশিন যা দ্বারা খুব সহজেই কোন কষ্ট ছাড়াই ইলেকট্রিসিটির মাধ্যমে ওয়াশিং মেশিন দিয়ে কাপড় ধৌত করা যায়। বর্তমানে প্রযুক্তি খুবই উন্নত হওয়ার কারণে খুব অল্প বিদ্যুৎ খরচ করেও খুব ভালো ভাবে কাপড় ধৌত করার জন্য বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন ওয়াশিং মেশিন বাজারে ছেড়েছে তাও আবার খুবই অল্প দামে। 

এখন মূল আলোচনা হল, যদি আপনি ওয়াশিং মেশিন কেনার প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আপনাকে এ ব্যাপারে অনেক ঘাটাঘাটি করে কিনতে হবে না। যেহেতু বর্তমানে অনলাইনে সবকিছু পাওয়া যায় সেহেতু আপনি ঘরে বসেই আপনার পছন্দের ওয়াশিং মেশিনটি বাছাই করতে পারেন। তারপরও আপনাদের এমন কিছু ধারণা দিয়ে দিব যাতে করে ওয়াশিং মেশিন কিনতে সহজ হয়।

চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক ওয়াশিং মেশিন কেনার সময় কি কি বিষয়ে লক্ষ্য করা উচিত :-

  1. য়াশিং মেশিনের ব্রান্ড
  2. ওয়াশিং মেশিনের দাম
  3. ওয়াশিং মেশিনের প্রসেস
  4. ওয়াশিং মেশিনের ওয়ারেন্টির কাগজ

ওয়াশিং মেশিনের ব্রান্ড

বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় সব ব্রান্ডের ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যায় যেমন :- স্যামসাং, শার্প, ওয়ালটন, হিটাচি, ওয়্যার্লপুল ইত্যাদি। এই ব্রান্ডগুলো সবগুলো উন্নতমানের ব্র্যান্ড। আপনি চাইলে এখান থেকে যেকোন একটি ব্র্যান্ড পছন্দ করে আপনার পছন্দের ওয়াশিং মেশিনটি কিনে নিতে পারেন।

ওয়াশিং মেশিনের দাম

যারা বেশি বাজেটের ওয়াশিং মেশিন নিতে চান তারা অবশ্যই বাসের মেশিন কেনার সময় মেশিন থেকে যাচাই করে নিবেন যে মেশিনটি আটো নাকি সেমি অটো। কাপড় ধোয়ার শেষে কাপড়টি কতটুকু শুকাবে ১০০% নাকি তার কম। বিদ্যুৎ বিল কেমন খরচ হবে? এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করবেন বিক্রেতার কাছে।

যাদের বাজেট বেশি তাদের জন্য :- ৫০ হাজার – ৭৫ হাজার মধ্যে ভালো ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যাবে।

আর যাদের বাজেট একটু স্বল্প তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুখবর! বর্তমানে অল্প বাজেটেই ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যায় কিন্তু কিছু কিছু জিনিস ছাড় দিতে হবে যেমন :- মেশিনে ব্লিচিং পাউডার বেশি লাগতে পারে আবার কাপড় 100% শুকাতে নাও পারে, ভালোভাবে দেখতে গেল এগুলো কোন ব্যাপার না ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধৌত করে কাপড়কে রোদ্র দিলেই হয়ে যায়।

যাদের বাজেট কম তাদের জন্য ১৫ হাজার – ২৫ হাজারের মধ্যে ভালো ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যাবে।

ওয়াশিং মেশিনের ওয়ারেন্টির কাগজ

অবশ্যই ওয়াশিং মেশিন ক্রয় করার সময় আপনার ওয়াশিং মেশিনের ওয়ারেন্টি কার্ড চেক করে নিবেন এবং ভালভাবে যাচাই করে নিবেন যে কত বছরের ওয়ারেন্টি দিয়েছে। কাটিতে ভালো করে আপনার নাম এবং তাদের মধ্যে যে আনুষঙ্গিক তথ্য প্রয়োজন তা দিয়ে কাগজটিকে পূরণ করুন। তারপর আপনার কাছে কাগজটি যত্ন করে রেখে দিন। 

Note. যেকোনো সময় ওয়ারেন্টি কাগজ দরকার হতে পারে।

ওয়াশিং মেশিন ক্রয় করার ক্ষেত্রে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে যে “ফ্রন্ট লোডার নাকি টপ লোডার” নিব?

এই প্রশ্নটিই ওয়াশিং মেশিন কেনার ক্ষেত্রে অনেকেরই মনে জাগে। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক এদের মধ্যে পার্থক্যটা কি?

ফ্রন্ট লোডার

সুবিধা :- 

  • কাপড় খুব যত্ন সহকারে ধীরে ধীরে ধৌত করে।
  • অল্প পরিমাণ পানিতে কাপড় ধোয়া যায়।
  • বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।
  • অল্প পরিমাণ ডিটারজেন্টের প্রয়োজন হয়।

অসুবিধা :-

  • কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে একটু বেশি সময় লাগে।
  • ওজনে ভারী হয়।
  • ফ্রন্ট লোডারের দাম বেশি হয়।

টপ লোডার

সুবিধা :- 

  • কাপড় খুব দ্রুত ধৌত করতে পারে।
  • তুলনামূলকভাবে টপ লোডারের দাম কম।
  • ওজনে হালকা তাই সহজে নড়াচড়া করা যায়।

অসুবিধা :- 

  • কাপড় যত্নসহকারে ধৌত করতে পারে না।
  • বেশি মাত্রায় পানির প্রয়োজন হয়।
  • ব্লিচিং পাউডার বেশি খরচ হয়।
  • বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়।

আপনার পছন্দ হতে পারে

পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

আরো ভালো ভালো পোস্ট পেতে টেক্সটাইল বাংলাকে সাবস্ক্রাইব করুন

Leave a Comment